একদিন এসো

 | BanglaKagaj.in

একদিন এসো

রাঙ্গামাটি, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি পার্বত্য জেলা, প্রকৃতিপ্রেমী এবং ভ্রমণকারীদের জন্য স্বপ্নের গন্তব্য। পাহাড়, হ্রদ, ঝর্ণা এবং পার্বত্য সংস্কৃতির মিশ্রণে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্বর্গ। হাতে সময় কম থাকলে, মাত্র একদিনেই রাঙ্গামাটির কিছু বিখ্যাত স্থান ঘুরে আসা সম্ভব। আজকের ভ্রমণকাহিনীতে একদিনে রাঙ্গামাটির কিছু দর্শনীয় স্থান, একটি সুন্দর ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং কিছু স্মৃতি তুলে ধরা হলো।

কাপ্তাই লেক: রাঙ্গামাটি যাত্রা শুরু করতে পারেন কাপ্তাই লেক দিয়ে। পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এই হ্রদটি বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। এর সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। হ্রদের মাঝে নৌকায় ভ্রমণকালে সবুজ পাহাড় এবং জলের নীল ঢেউ মন জয় করে নেয়। ভোরের নৌকা ভ্রমণ প্রকৃতির অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। কাপ্তাই লেক পরিদর্শনের সময় প্রতিটি মুহূর্ত যেন ক্যামেরাবন্দী করার মতো।

রাজবন বিহার: কাপ্তাই লেকের পর রাজবন বিহার হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ধর্মীয় স্থাপত্য এবং ধ্যানমগ্ন পরিবেশ এখানে পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে পার্বত্য সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। এটি ভ্রমণকারীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা।

শুভলং ঝর্ণা: বিখ্যাত শুভলং ঝর্ণা এবং ছোট শুভলং ঝর্ণা কাপ্তাই লেক থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। এখানে দুটি ঝর্ণা রয়েছে – একটি বড় এবং অন্যটি ছোট। সাধারণত ঝর্ণাগুলোতে সবসময় কম জল থাকে। তবে বর্ষাকালে জলের প্রবাহ বেড়ে গেলে এর সৌন্দর্য বহুগুণে বেড়ে যায়। শীতকালে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়, কারণ আশেপাশের পাহাড়ের দৃশ্য সত্যি অসাধারণ। শুভলং ঝর্ণা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা।

ঝুলন্ত সেতু: রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতীক হল ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত এই সেতুটি ভ্রমণকারীদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ। সেতুর উপর দাঁড়ালে হ্রদ ও পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এটি ছবি তোলার জন্য চমৎকার একটি স্থান। রাঙ্গামাটিতে এসে ঝুলন্ত সেতু না দেখলে আপনার ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যাবে।

উপজাতি বাজার: উপজাতি বাজারগুলোতে উপজাতিদের তৈরি হস্তশিল্প পাওয়া যায়। হাতে বোনা কাপড়, বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র, পাহাড়ি মশলা এবং শুকনো খাবার বাজারে পাওয়া যায়। এই জিনিসগুলো শুধু স্মারক হিসেবে কেনার জন্য নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুভব করারও সুযোগ করে দেয়।

পলওয়েল পার্ক ও পর্যটন কমপ্লেক্স: পলওয়েল পার্ক ও পর্যটন কমপ্লেক্সটি শহরের কাছেই অবস্থিত, যা পরিবার এবং শিশুদের জন্য উপযুক্ত। এখানে সবুজ ঘাস, খেলার মাঠ, কৃত্রিম হ্রদ এবং সুন্দর পরিবেশ রয়েছে, যা relaxation-এর জন্য দারুণ। বিকেলে পার্কে সময় কাটানো মনকে সতেজ করে তোলে।

স্থানীয় খাবার: রাঙ্গামাটির স্থানীয় খাবারের স্বাদ না নিলে আপনার ভ্রমণ সম্পূর্ণ হবে না। এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার, শুকনো মাছ, মুরগির ঝোল, পাহাড়ি সবজি ও ভাত পাওয়া যায়। রাঙ্গামাটির আসল স্বাদ পেতে হলে অবশ্যই স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে হবে।

পাহাড়, হ্রদ, ঝর্ণা ও বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণে রাঙ্গামাটি এক অনন্য সৌন্দর্যের অধিকারী। মাত্র একদিনেই আপনি এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প এবং সংস্কৃতি রাঙ্গামাটি ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করে। তাই ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি নিয়ে রাঙ্গামাটিতে আসুন, আপনার মন শান্তি ও সৌন্দর্যে ভরে উঠবে।

(ট্যাগস্টোট্রান্সলেট) বাংলাদেশ (টি) সংবাদ


প্রকাশিত: 2025-10-12 20:47:00

উৎস: www.ittefaq.com.bd